খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ই জানুয়ারি ২০১৫, ৬:৩০ পিএম
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রবেশদ্বার এবং খুলনা বিভাগের অন্যতম প্রধান প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কেন্দ্র হলো যশোর। ইতিহাস ও ঐতিহ্যের দিক থেকে এই জনপদটি যেমন প্রাচীন, তেমনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের পরিক্রমাতেও এর ভূমিকা অনন্য। ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কবল থেকে মুক্ত হয়ে যশোর লাভ করে ‘বাংলাদেশের প্রথম শত্রুমুক্ত জেলা’র ঐতিহাসিক গৌরব। ভৈরব নদের তীরে গড়ে ওঠা এবং বর্তমানে দেশের ‘ফুলের রাজধানী’ হিসেবে খ্যাত এই জেলাটির শাসনতান্ত্রিক ও ভৌগোলিক অভ্যুদয়ের ইতিহাস অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়।
উপজেলার সংখ্যানুসারে দেশের অন্যতম একটি ‘এ’ শ্রেণীভুক্ত জেলা যশোরের পত্তন, বিকাশ এবং নামের নামকরণের পেছনে রয়েছে একাধিক ঐতিহাসিক পটভূমি।

Table of Contents
যশোরের ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, এটি হাজার বছরের পুরোনো এক প্রাচীন জনপদ। সুলতানী আমলে, আনুমানিক ১৪৫০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে বিখ্যাত সুফি সাধক হযরত পীর খান জাহান আলী (র.) তাঁর সঙ্গী বারোজন আউলিয়াকে সাথে নিয়ে যশোরের ‘মুড়লী’ নামক স্থানে ইসলাম ধর্ম প্রচারের প্রধান কেন্দ্র স্থাপন করেন। তাঁর আগমনের পর এই অঞ্চলকে কেন্দ্র করে ‘মুড়লী কসবা’ নামে একটি নতুন শহরের পত্তন ঘটে।
পরবর্তীতে মোঘল আমলে, ১৫৫৫ খ্রিষ্টাব্দের দিকে মহারাজ হরিদাস রায়ের পুত্র শ্রীহরি রায় (যিনি রাজা বিক্রমাদিত্য নামে পরিচিত) এই অঞ্চলে ‘যশোর রাজ্য’ প্রতিষ্ঠা করেন। সে সময়কার যশোর রাজ্যের সীমানা আজকের মতো ছোট ছিল না। বর্তমান সম্পূর্ণ যশোর, খুলনা, ভারতের বনগাঁ এবং কুষ্টিয়া ও ফরিদপুরের কিছু অংশ নিয়ে বিস্তৃত ছিল তৎকালীন এই স্বাধীন প্রতাপশালী রাজ্য। পরবর্তীতে বিক্রমাদিত্যের পুত্র রাজা প্রতাপাদিত্য মোঘলদের বিরুদ্ধে বারো ভূঁইয়াদের নেতা হিসেবে এই অঞ্চলের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ধরে রেখেছিলেন। ব্রিটিশ শাসনামলে ১৭৮১ সালে যশোরকে একটি পৃথক জেলা হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
যশোর বা প্রাচীন ‘যশোহর’ নামের উৎপত্তি নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে নানা চমৎকার মতবাদ ও বিশ্লেষণ প্রচলিত রয়েছে। প্রধান দুটি মতবাদ নিচে আলোচনা করা হলো:
যশোরের এই সুদীর্ঘ পথচলার প্রমাণ ছড়িয়ে আছে জেলার আনাচে-কানাচে। এই অভ্যুদয়ের ইতিহাসের সাথে জড়িয়ে আছে বেশ কিছু প্রাচীন স্থাপত্য ও ঐতিহ্য:

শত বছরের প্রাচীন সুফি ঐতিহ্য, মোঘল আমলের স্বাধীনচেতা শাসন এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রথম স্বাধীন হওয়ার গৌরব—সব মিলিয়ে যশোর জেলা কেবল একটি ভৌগোলিক ভূখণ্ড নয়, বরং এটি বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য চালিকাশক্তি।
মন্তব্য