শুক্রবার, ২১ই আগস্ট ২০২৬, ৬শে ভাদ্র ১৪৩৩
শুক্রবার, ২১ই আগস্ট ২০২৬, ৬শে ভাদ্র ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ :
যশোরের ঝিকরগাছায় পুকুরে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু যশোরে মাইকে ঘোষণা দিয়ে সংঘর্ষ, আহত ৫ যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত যশোর ৪৯ বিজিবির ১২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপিত যশোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি যশোরে সক্রিয় অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা বহিষ্কৃত নেতার দাবি — কাদেরকে পালাতে সহযোগিতা করেছে যশোর যুবদলের সা. সম্পাদক যশোরে আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ১ ফুটবলারদের নতুন ঠিকানা যশোর যশোরে আ.লীগের ১৬৭ নেতা–কর্মীর আত্মসমর্পণ, আদালত চত্বরে স্লোগান যশোরের ঝিকরগাছায় পুকুরে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু যশোরে মাইকে ঘোষণা দিয়ে সংঘর্ষ, আহত ৫ যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত যশোর ৪৯ বিজিবির ১২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপিত যশোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি যশোরে সক্রিয় অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা বহিষ্কৃত নেতার দাবি — কাদেরকে পালাতে সহযোগিতা করেছে যশোর যুবদলের সা. সম্পাদক যশোরে আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ১ ফুটবলারদের নতুন ঠিকানা যশোর যশোরে আ.লীগের ১৬৭ নেতা–কর্মীর আত্মসমর্পণ, আদালত চত্বরে স্লোগান যশোরের ঝিকরগাছায় পুকুরে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু যশোরে মাইকে ঘোষণা দিয়ে সংঘর্ষ, আহত ৫ যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত যশোর ৪৯ বিজিবির ১২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপিত যশোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি যশোরে সক্রিয় অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা বহিষ্কৃত নেতার দাবি — কাদেরকে পালাতে সহযোগিতা করেছে যশোর যুবদলের সা. সম্পাদক যশোরে আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ১ ফুটবলারদের নতুন ঠিকানা যশোর যশোরে আ.লীগের ১৬৭ নেতা–কর্মীর আত্মসমর্পণ, আদালত চত্বরে স্লোগান যশোরের ঝিকরগাছায় পুকুরে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু যশোরে মাইকে ঘোষণা দিয়ে সংঘর্ষ, আহত ৫ যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত যশোর ৪৯ বিজিবির ১২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপিত যশোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি যশোরে সক্রিয় অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা বহিষ্কৃত নেতার দাবি — কাদেরকে পালাতে সহযোগিতা করেছে যশোর যুবদলের সা. সম্পাদক যশোরে আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ১ ফুটবলারদের নতুন ঠিকানা যশোর যশোরে আ.লীগের ১৬৭ নেতা–কর্মীর আত্মসমর্পণ, আদালত চত্বরে স্লোগান যশোরের ঝিকরগাছায় পুকুরে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু যশোরে মাইকে ঘোষণা দিয়ে সংঘর্ষ, আহত ৫ যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত যশোর ৪৯ বিজিবির ১২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপিত যশোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি যশোরে সক্রিয় অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা বহিষ্কৃত নেতার দাবি — কাদেরকে পালাতে সহযোগিতা করেছে যশোর যুবদলের সা. সম্পাদক যশোরে আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ১ ফুটবলারদের নতুন ঠিকানা যশোর যশোরে আ.লীগের ১৬৭ নেতা–কর্মীর আত্মসমর্পণ, আদালত চত্বরে স্লোগান যশোরের ঝিকরগাছায় পুকুরে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু যশোরে মাইকে ঘোষণা দিয়ে সংঘর্ষ, আহত ৫ যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত যশোর ৪৯ বিজিবির ১২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপিত যশোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি যশোরে সক্রিয় অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা বহিষ্কৃত নেতার দাবি — কাদেরকে পালাতে সহযোগিতা করেছে যশোর যুবদলের সা. সম্পাদক যশোরে আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ১ ফুটবলারদের নতুন ঠিকানা যশোর যশোরে আ.লীগের ১৬৭ নেতা–কর্মীর আত্মসমর্পণ, আদালত চত্বরে স্লোগান যশোরের ঝিকরগাছায় পুকুরে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু যশোরে মাইকে ঘোষণা দিয়ে সংঘর্ষ, আহত ৫ যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত যশোর ৪৯ বিজিবির ১২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপিত যশোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি যশোরে সক্রিয় অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা বহিষ্কৃত নেতার দাবি — কাদেরকে পালাতে সহযোগিতা করেছে যশোর যুবদলের সা. সম্পাদক যশোরে আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ১ ফুটবলারদের নতুন ঠিকানা যশোর যশোরে আ.লীগের ১৬৭ নেতা–কর্মীর আত্মসমর্পণ, আদালত চত্বরে স্লোগান যশোরের ঝিকরগাছায় পুকুরে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু যশোরে মাইকে ঘোষণা দিয়ে সংঘর্ষ, আহত ৫ যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত যশোর ৪৯ বিজিবির ১২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপিত যশোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি যশোরে সক্রিয় অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা বহিষ্কৃত নেতার দাবি — কাদেরকে পালাতে সহযোগিতা করেছে যশোর যুবদলের সা. সম্পাদক যশোরে আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ১ ফুটবলারদের নতুন ঠিকানা যশোর যশোরে আ.লীগের ১৬৭ নেতা–কর্মীর আত্মসমর্পণ, আদালত চত্বরে স্লোগান যশোরের ঝিকরগাছায় পুকুরে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু যশোরে মাইকে ঘোষণা দিয়ে সংঘর্ষ, আহত ৫ যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত যশোর ৪৯ বিজিবির ১২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপিত যশোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি যশোরে সক্রিয় অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা বহিষ্কৃত নেতার দাবি — কাদেরকে পালাতে সহযোগিতা করেছে যশোর যুবদলের সা. সম্পাদক যশোরে আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ১ ফুটবলারদের নতুন ঠিকানা যশোর যশোরে আ.লীগের ১৬৭ নেতা–কর্মীর আত্মসমর্পণ, আদালত চত্বরে স্লোগান যশোরের ঝিকরগাছায় পুকুরে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু যশোরে মাইকে ঘোষণা দিয়ে সংঘর্ষ, আহত ৫ যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত যশোর ৪৯ বিজিবির ১২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপিত যশোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি যশোরে সক্রিয় অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা বহিষ্কৃত নেতার দাবি — কাদেরকে পালাতে সহযোগিতা করেছে যশোর যুবদলের সা. সম্পাদক যশোরে আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ১ ফুটবলারদের নতুন ঠিকানা যশোর যশোরে আ.লীগের ১৬৭ নেতা–কর্মীর আত্মসমর্পণ, আদালত চত্বরে স্লোগান

যশোর

যশোর জেলার পটভূমি : ইতিহাস ও ঐতিহ্যের চারণভূমি

খবরওয়ালা ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ই জানুয়ারি ২০১৫, ১২:৪৮ পিএম

যশোর জেলার পটভূমি : ইতিহাস ও ঐতিহ্যের চারণভূমি

বাংলাদেশ নামের এই অনন্য ভূখণ্ডটি প্রাচীনকালে আজকের মতো একক কোনো রাষ্ট্র ছিল না, বরং তা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অনেকগুলো স্বাধীন রাজ্যে বিভক্ত ছিল। প্রাচীন ইতিহাসের পাতা ওল্টালে রাঢ়, পুণ্ড্র, সমতট, তাম্রলিপ্ত, বঙ্গ ও ভাংগা নামক জনপদগুলোর নাম পাওয়া যায়। ইতিহাসবিদদের ধারণা, সুদূর অতীতে আজকের যশোর অঞ্চলটি মূলত তাম্রলিপ্ত ও ভাংগা রাজ্যের ভৌগোলিক সীমানার অন্তর্ভুক্ত ছিল। গঙ্গা নদীর পলল অবক্ষেপণ ও পলিমাটি জমে জমে এই গাঙ্গেয় বদ্বীপের সৃষ্টি। যশোরের প্রাচীনতম ভৌগোলিক অস্তিত্বের প্রথম প্রমাণ মেলে গ্রিক জ্যোতির্বিদ ও ভূগোলবিদ টলেমির মানচিত্রে। এছাড়া সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র গ্রন্থ মহাভারত, পুরাণ, বেদ এবং মোগল আমলের বিখ্যাত ‘আইন-ই-আকবরী’ গ্রন্থেও এই অঞ্চলের প্রাচীন সমৃদ্ধির বিবরণ রয়েছে। একসময় এই অঞ্চলটি গভীর সুন্দরবনের অংশ ও জঙ্গল দ্বারা আবৃত ছিল। অনার্য আদিম অধিবাসীরা কঠোর পরিশ্রমে সেই জঙ্গল পরিষ্কার করে এখানে প্রথম মানব বসতি গড়ে তোলে।

যশোর জেলার পটভূমি
যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরী

প্রতিষ্ঠাকালের ইতিহাস ও প্রাচীন স্বাধীন রাজ্য

আধুনিক প্রশাসনিক জেলা হিসেবে যশোর বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও প্রথম জেলা। ব্রিটিশ আমলে ১৭৮৬ সালে এই জেলার আনুষ্ঠানিক সৃষ্টি হয়, যা আজ থেকে প্রায় আড়াই শ বছর আগের কথা। উপমহাদেশে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তির আগ্রাসন শুরু হলে সমগ্র বাংলা তাদের অধীনে চলে যায়। তবে যশোরের স্বাধীনচেতা ও সংগ্রামী মানুষকে সহজে দমন করা সম্ভব হচ্ছিল না। চিরকাল আপোসহীন এই অঞ্চলের শাসনকাজ পরিচালনা এবং খাজনা আদায়ের সুবিধার জন্য ব্রিটিশ শাসকেরা একে একটি স্বতন্ত্র জেলা হিসেবে ঘোষণা করে। তৎকালীন অবিভক্ত যশোর জেলার সীমানা ছিল বিশাল। আজকের কুষ্টিয়া, খুলনা, ফরিদপুর, ঝিনাইদহ, মাগুরা, নড়াইল এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ মহকুমা সহ এক বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে এর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ছিল।

জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রায় দুই শ বছর আগে, অর্থাৎ ষোড়শ শতকের শেষভাগ থেকে যশোর একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন রাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। তৎকালীন সময়ে এই অঞ্চলকে ‘ভাটির দেশ’ বলা হতো। সেই স্বাধীন যশোর রাজ্যের সীমানা ছিল পূর্বে মধুমতি নদী, উত্তরে হরিণঘাটা, পশ্চিমে ভারতের কুশদ্বীপ ও ভাগীরথী নদী এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত। এই স্বাধীন রাজ্যের শাসকদের মধ্যে মহারাজ বিক্রমাদিত্য ও তাঁর পুত্র বারো ভূঁইয়ার অন্যতম প্রধান বীর রাজা প্রতাপাদিত্য এবং পরবর্তীকালের রাজা সীতারাম রায়ের নাম ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে। অনেকে বিখ্যাত সুফি সাধক ও ইসলাম প্রচারক খানজাহান আলীকেও এখানকার স্বাধীন শাসক মনে করেন, যদিও ঐতিহাসিকদের অন্য একটি অংশের মতে তিনি ছিলেন দিল্লির সুলতান মাহমুদ শাহের প্রেরিত প্রতিনিধি বা জায়গিরদার।

যশোর জেলার পটভূমি
গদখালী ফুলের বাগান – যশোর জেলা

বিভিন্ন রাজবংশের শাসনকাল ও ঐতিহাসিক সময়রেখা

খ্রিস্টীয় প্রথম শতাব্দী থেকে শুরু করে আধুনিক সময় পর্যন্ত যশোর অঞ্চলে অসংখ্য রাজবংশ ও শক্তির উত্থান-পতন ঘটেছে। নিচে এর একটি পূর্ণাঙ্গ কালানুক্রমিক বিবরণ দেওয়া হলো:

ক্রমিক রাজবংশ/শাসকগোষ্ঠী আনুমানিক শাসনকাল/সময়কাল ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও মূল ঘটনা
স্বাধীন বঙ্গ ও তাম্রলিপ্ত জনপদ ১ম – ৫ম শতাব্দী টলেমির মানচিত্রে এই অঞ্চলের শক্তিশালী স্বাধীন অস্তিত্বের উল্লেখ মেলে।
গুপ্ত সাম্রাজ্য (সমুদ্রগুপ্ত) ৬ষ্ঠ শতাব্দীর প্রথম ভাগ উত্তর ভারতের গুপ্ত রাজবংশের অধীনে চলে যায়।
গৌড়ের সম্রাট শশাঙ্ক ও হর্ষবর্ধন ৭ম শতাব্দী শশাঙ্কের সাম্রাজ্যভুক্ত হয়, পরে হর্ষবর্ধন শাসনভার নেন।
বৌদ্ধ রাজন্যবর্গ ৭ম শতাব্দীর মধ্যভাগ কিছুদিনের জন্য বৌদ্ধ রাজাদের অধীনে স্তূপ ও মঠ নির্মিত হয়।
রাজা যশোরমণি বৌদ্ধ রাজত্বের পর বৌদ্ধদের পরাজিত করে স্থানীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
পাল রাজবংশ ১০৮০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত পাল রাজাদের দীর্ঘ শাসনে শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশ ঘটে।
বর্মণ রাজবংশ ১০৮০ – ১১৫০ খ্রিস্টাব্দ পালদের পতনের পর এই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নেয়।
সেন রাজবংশ ১১৫০ – ১২০৪ খ্রিস্টাব্দ রাজা লক্ষণ সেনের আমল পর্যন্ত হিন্দু রাজত্বের চরম বিকাশ ঘটে।
সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ ১৪শ শতাব্দীর মধ্যভাগ প্রথম স্বাধীন মুসলিম সুলতান হিসেবে বাংলার সাথে যশোর যুক্ত করেন।
১০ হাবশী বা দাস রাজবংশ ১৪৮৭ – ১৪৯৩ খ্রিস্টাব্দ ইলিয়াস শাহী বংশের পতনের পর সংক্ষিপ্ত শাসন।
১১ হুসেন শাহী রাজবংশ ১৪৯৩ – ১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দ সুলতান আলাউদ্দীন হুসেন শাহের আমলে শান্তি ও সমৃদ্ধি আসে।
১২ সুর বংশ (শেরশাহ সূরী) ১৫৩৮ – ১৫৭৬ খ্রিস্টাব্দ বিখ্যাত পাঠান সম্রাট শেরশাহের সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়।
১৩ মোগল সাম্রাজ্য ও ফৌজদার আমল ১৫৭৬ খ্রিষ্টাব্দের পর সম্রাট আকবর ফৌজদার নিযুক্ত করেন। প্রথম ফৌজদার ছিলেন ইনায়েত খাঁ।
১৪ ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন ১৭৮৬ – ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দ ১৭৮৬ সালে বাংলাদেশের প্রথম আনুষ্ঠানিক জেলা হিসেবে যশোর গঠিত হয়।
১৫ পাকিস্তান আমল (পূর্ব পাকিস্তান) ১৯৪৭ – ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দ দেশভাগের পর পূর্ব পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয়ে চরম শোষণের শিকার হয়।

বারো ভূঁইয়ার উত্থান ও মোগল আমল

১৫৭৪ সালে গৌড়ের সুলতান দাউদ কররানীর পতন ঘটলে তাঁর অত্যন্ত বিশ্বস্ত সহযোগী শ্রীহরি গৌড়ের রাজকোষের অঢেল ধন-সম্পদ নৌকা বোঝাই করে এই অঞ্চলে নিয়ে আসেন এবং নিজেকে স্বাধীন ঘোষণা করেন। এই শ্রীহরিই পরবর্তীতে ‘মহারাজ বিক্রমাদিত্য’ উপাধি ধারণ করে স্বাধীন যশোর রাজ্যের গোড়াপত্তন করেন। তিনি ঈশ্বরপুর ও তেকাটিয়াতে তাঁর রাজধানী স্থাপন করেছিলেন। বিক্রমাদিত্যের মৃত্যুর পর ১৫৮৭ সালে তাঁর পুত্র গোপীনাথ ‘রাজা প্রতাপাদিত্য’ উপাধি নিয়ে সিংহাসনে আরোহণ করেন। তিনি সুন্দরবনের ধুমঘাটে তাঁর নতুন রাজধানী গড়ে তোলেন এবং মোগল সম্রাট আকবরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে বাংলার স্বাধীনতা ধরে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করেন।

পরবর্তীতে মোগলরা এই অঞ্চল পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ফৌজদারি শাসন ব্যবস্থা চালু করে। ইনায়েত খাঁ, সরফরাজ খাঁ ও নুরুল্লাহ খাঁ পর্যায়ক্রমে এখানকার ফৌজদার নিযুক্ত হন। নবাব মুর্শিদকুলী খাঁর আমলে উত্তর রাঢ় বংশীয় কায়স্থ রাজা সীতারাম রায় মহম্মদপুরকে রাজধানী করে মোগলদের রাজস্ব দেওয়া বন্ধ করে স্বাধীন হতে চেয়েছিলেন। তবে নবাবের সুশিক্ষিত বাহিনীর কাছে যুদ্ধে তিনি পরাজিত হন। সীতারামের পতনের পর গোটা যশোর অঞ্চলটি নাটোর, চাঁচড়া ও নলডাঙ্গার জমিদারদের মধ্যে বিভক্ত হয়ে যায়।

খানজাহান আলী (র.) ও ইসলামের আগমন

যশোরের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসে উলুঘ খান বা খানজাহান আলী (র.)-এর অবদান অবিস্মরণীয়। দিল্লির সুলতান নাসিরুদ্দিন মাহমুদ শাহের শাসনামলে (১৪০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে) তিনি এই অঞ্চলের জায়গিরদার হয়ে আসেন। তিনি বারোবাজার ও পয়গ্রাম কসবায় তাঁর রাজধানী স্থাপন করে শাসনকাজ পরিচালনার পাশাপাশি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ইসলাম ধর্মের আলো ছড়িয়ে দেন। গভীর জঙ্গল কেটে তিনি রাস্তাঘাট, অসংখ্য দীঘি ও দিগম্বরী মসজিদ (যেমন বাগেরহাটের ষাট গম্বুজ মসজিদ) নির্মাণ করেন। যশোর শহরের বিখ্যাত সাধক হযরত গরীব শাহ (র.) ছিলেন তাঁরই অন্যতম প্রধান সহযোগী।

সীমানা সংকোচন ও মহকুমা বিভাজন

ব্রিটিশ শাসনামলে বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলন ও বিদ্রোহের কারণে বিশাল যশোর জেলাকে ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে ১৮৬০ সালের নীল বিদ্রোহ এবং কৃষক আন্দোলনের তীব্রতায় কাঁপছিল গোটা জেলা। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইংরেজ সরকার ১৮৬১-৬২ সালে যশোরকে ভেঙে খুলনা, ঝিনাইদহ, মাগুরা ও নড়াইলকে মহকুমায় রূপান্তরিত করে। ১৮৬৩ সালে সাতক্ষীরাকে চব্বিশ পরগণা জেলার সাথে যুক্ত করা হয়। ১৮৮১ সালে খুলনাকে পূর্ণাঙ্গ জেলা ঘোষণা করে সাতক্ষীরাকে তার মহকুমা করা হয়। পরবর্তীতে ২০ শতকের মাঝামাঝি সময়েও এর সীমানা পুনর্গঠন চলতে থাকে। সবশেষে ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ সরকারের প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় যশোরের চার মহকুমা—ঝিনাইদহ, মাগুরা, নড়াইল ও যশোর সদরকে চারটি পৃথক ও স্বাধীন জেলায় রূপান্তর করা হয়। যার ফলে প্রাচীন প্রমত্তা যশোর আজ একটি খণ্ডিত ভৌগোলিক সীমানায় এসে দাঁড়িয়েছে।

বিপ্লবের ঐতিহ্য ও স্বাধীন বাংলাদেশ

যশোরের মানুষ চিরকালই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার এবং স্বাধীনচেতা। ১৭৮৬ সালের পর থেকে ব্রিটিশ বিরোধী সিপাহী বিদ্রোহ, নীল চাষীদের অধিকার আদায়ের নীল বিদ্রোহ, তেভাগা আন্দোলন ও স্বদেশী আন্দোলনে এখানকার মানুষ রক্ত দিয়েছে। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের সময় ব্রিটিশদের কূটকৌশলের কারণে বনগাঁ মহকুমা ভারতের অংশ হয়ে যায় এবং যশোর পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয়। তবে পশ্চিম পাকিস্তানি শোষকদের অপশাসনের বিরুদ্ধেও প্রথম থেকেই গর্জে উঠেছিল এই মাটি।

১৯৭১ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে যখন মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়, তখন যশোরের সর্বস্তরের মানুষ জীবন বাজি রেখে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। পাকিস্তানি বাহিনীর পৈশাচিক গণহত্যা ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে এখানকার বীর সন্তানেরা। ফলস্বরূপ, ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর মহান মুক্তিযুদ্ধে সমগ্র বাংলাদেশের মধ্যে প্রথম জেলা হিসেবে যশোর সম্পূর্ণ শত্রুমুক্ত হয়। বাংলাদেশের স্বাধীন মানচিত্রের প্রথম বিজয়ী পতাকা এই যশোরের মাটিতেই উত্তোলিত হয়েছিল। আজ খণ্ডিত সীমানার এক জেলা হলেও, গৌরবময় অতীত আর ত্যাগের মহিমায় উজ্জ্বল যশোর জেলাটি চিরকাল বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

মন্তব্য