খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ই জানুয়ারি ২০১৫, ১২:১ পিএম
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চালিকাশক্তি হিসেবে যশোর জেলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর দেশের প্রথম স্বাধীন জেলা হিসেবে শত্রুমুক্ত হওয়ার গৌরব অর্জন করা এই জনপদটি জাতীয় রাজনীতিতেও সব সময় প্রভাবশালী অবদান রেখেছে। ভৈরব নদের অববাহিকায় গড়ে ওঠা এবং ঐতিহ্যবাহী নানা লোকজ সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ এই জেলায় বর্তমানে জাতীয় সংসদের মোট ৬টি নির্বাচনী আসন রয়েছে।
তৃণমূল পর্যায়ের উন্নয়ন, আইন প্রণয়ন এবং স্থানীয় জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় এই আসনগুলো থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যবৃন্দ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। যশোর জেলার বর্তমান সংসদীয় আসন এবং জনপ্রতিনিধিদের সুবিন্যস্ত বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো।

Table of Contents
যশোর জেলার ৬টি নির্বাচনী আসন এবং সেখান থেকে নির্বাচিত মাননীয় সংসদ সদস্যবৃন্দের নাম ও তাঁদের রাজনৈতিক দলের বিবরণ নিচে ছক আকারে দেওয়া হলো:
| আসন নম্বর | নির্বাচনী এলাকা | সংসদ সদস্যের নাম | রাজনৈতিক দলের নাম |
| ৮৫ | যশোর-১ (শার্শা) | জনাব শেখ আফিল উদ্দিন | বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ |
| ৮৬ | যশোর-২ (চৌগাছা – ঝিকরগাছা) | জনাব মোঃ নাসির উদ্দীন | বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ |
| ৮৭ | যশোর-৩ (সদর) | জনাব কাজী নাবিল আহমেদ | বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ |
| ৮৮ | যশোর-৪ (বাঘারপাড়া – অভয়নগর) | জনাব রনজিত কুমার রায় | বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ |
| ৮৯ | যশোর-৫ (মণিরামপুর) | জনাব স্বপন ভট্টাচার্য্য | বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ |
| ৯০ | যশোর-৬ (কেশবপুর) | জনাব মোঃ শাহীন চাকলাদার | বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ |
যশোর কেবল জনপ্রতিনিধিত্বেই নয়, বরং এর নামের পেছনেও রয়েছে সুবিশাল ঐতিহাসিক তাৎপর্য। উপজেলার সংখ্যানুসারে দেশের অন্যতম ‘এ’ শ্রেণীভুক্ত এই জেলার নামকরণ নিয়ে ঐতিহাসিকদের মাঝে দুটি চমৎকার মতবাদ প্রচলিত আছে:
খান জাহান আলী (র.) ও ‘জসর’: একটি প্রাচীন মতানুযায়ী, আরবি শব্দ ‘জসর’ থেকে যশোর নামের উৎপত্তি, যার অর্থ সাঁকো বা সেতু। ১৪ শতকের শেষের দিকে (আনুমানিক ১৩৯৮ খ্রিষ্টাব্দ) প্রখ্যাত সুফি সাধক পীর খান জাহান আলী (র.) যখন এই অঞ্চলে আসেন, তখন ভৈরব নদী পারাপারের জন্য তিনি একটি বাঁশের সাঁকো বা জসর নির্মাণ করেছিলেন। সেই থেকে এই অঞ্চলের নাম হয় যশোর এবং তিনি এখানকার অন্যতম প্রাচীন শহর ‘মুড়লী কসবা’-র পত্তন করেন।
রাজা বিক্রমাদিত্য ও ‘যশ হরণ’: অন্য একটি সূত্রমতে, মোঘল আমলে গৌড়ের চরম অরাজকতার সময় মহারাজ প্রতাপাদিত্যের পিতা বিক্রমাদিত্য এবং তাঁর সহযোগী বসন্ত রায় সুলতানের বিপুল ধনরত্ন নৌকা বোঝাই করে এই অঞ্চলে নিয়ে আসেন এবং একটি সমৃদ্ধ রাজ্য গড়ে তোলেন। প্রবাদ আছে, প্রাচীন বাংলার রাজধানী গৌড়ের সমস্ত ‘যশ’ বা গৌরব হরণ করে এই এলাকার শ্রীবৃদ্ধি ঘটায় এর নাম রাখা হয়েছিল ‘যশোহর’ (যশ হরণকারী), যা পরবর্তীতে অপভ্রংশ হয়ে ‘যশোর’ রূপ নেয়।
এই জেলার জনপ্রতিনিধিত্বের মতোই সুপ্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী এর প্রতিটি কোণ, যার সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে এখানকার ঐতিহাসিক নিদর্শনসমূহ:
যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি: এটি ভারত উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন এবং ঐতিহ্যবাহী একটি পাবলিক লাইব্রেরি, যা ১৮৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়ে আজ অবধি এই অঞ্চলের জ্ঞানচর্চার প্রধান কেন্দ্র হিসেবে টিকে রয়েছে।
এগারো শিব মন্দির: যশোরের অভয়নগর উপজেলার ভাটপাড়ায় অবস্থিত এই প্রাচীন মন্দিরটি স্থাপত্যশৈলীর এক অনন্য নিদর্শন। মোঘল আমলের ঐতিহ্যবাহী টেরাকোটা ও স্থাপত্যশৈলী দেখতে এখানে দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা আসেন।

তৃণমূল পর্যায় থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত যশোরের জনপ্রতিনিধিরা এই প্রাচীন জনপদের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বেনাপোল স্থলবন্দরের বাণিজ্যিক প্রসার এবং গদখালীর ফুল চাষের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। সমৃদ্ধ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং সুষম রাজনৈতিক নেতৃত্বের সমন্বয়ে যশোর জেলা বর্তমান বাংলাদেশের এক অন্যতম গতিশীল অঞ্চল হিসেবে নিজের অবস্থান বজায় রেখেছে।
মন্তব্য