খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ই জানুয়ারি ২০১৫, ১২:১৯ পিএম
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো কৃষি। গঙ্গা ও ভৈরব নদের পলিমাটি দ্বারা গঠিত যশোর জেলার জমি অত্যন্ত উর্বর, যা সব ধরনের ফসল, শাকসবজি এবং ফুল চাষের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী। দেশের মোট চাহিদার একটি বড় অংশের সবজি এবং সিংহভাগ বাণিজ্যিক ফুল এই জেলা থেকেই সরবরাহ করা হয়।
যশোর জেলার গ্রামীণ অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর। জেলার ৮টি উপজেলায় প্রান্তিক, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় শ্রেণীর কৃষকদের সক্রিয় অংশগ্রহণে কৃষি খাত দিন দিন আরও উন্নত হচ্ছে। নিচে যশোর জেলার উপজেলাভিত্তিক কৃষকের শ্রেণীবিভাগ ও কৃষি-সংক্রান্ত সাধারণ তথ্যের একটি পূর্ণাঙ্গ ও বিস্তারিত পরিসংখ্যান ছক আকারে উপস্থাপন করা হলো।

Table of Contents
আপনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৮টি উপজেলার কৃষক পরিবার ও কৃষি ব্লকের বিন্যাস নিচে দেওয়া হলো। এখানে উল্লেখ্য যে, মূল ডেটার কিছু জায়গায় বাৎসরিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ শূন্য (০) বা খালি রয়েছে, যা মূলত আঞ্চলিক আবহাওয়া কেন্দ্রের তৎকালীন রেকর্ড বা তথ্যের সীমাবদ্ধতা নির্দেশ করে।
| উপজেলার নাম | কৃষকের শ্রেণীবিভাগ (জন) | সাধারণ ও প্রশাসনিক তথ্য | বাৎসরিক বৃষ্টিপাত |
| মণিরামপুর |
অশ্রেণীভুক্ত: ৭৬,২১০
ভূমিহীন: ৪৯৭
প্রান্তিক: ১,০০৭
ক্ষুদ্র: ৩,৫৩৪
মাঝারি: ৪,৬৬৫
বড়: ৮১২ |
পৌরসভা: ১টি, ইউনিয়ন: ১৭টি, ওয়ার্ড: ১৫৩টি
ব্লক: ৫৩টি, মৌজা: ২৪৬টি, গ্রাম: ২৫৭টি |
১,৩২৪ মি.মি. |
| অভয়নগর |
অশ্রেণীভুক্ত: ৩২,৯১৫
ভূমিহীন: ২৬
প্রান্তিক: ১
ক্ষুদ্র: ৯
মাঝারি: ০
বড়: ৯০ |
পৌরসভা: ১টি, ইউনিয়ন: ৮টি, ওয়ার্ড: ৯টি
ব্লক: ২৫টি, মৌজা: ৮৯টি, গ্রাম: ১২৬টি |
০ মি.মি. |
| বাঘারপাড়া |
অশ্রেণীভুক্ত: ৫,৮৮৬
ভূমিহীন: ৩,৩৬৭
প্রান্তিক: ১৯২
ক্ষুদ্র: ৮,৬৩২
মাঝারি: ২৭
বড়: ১ |
পৌরসভা: ১টি, ইউনিয়ন: ৯টি, ওয়ার্ড: ৮৫টি
ব্লক: ২৮টি, মৌজা: ১৪৭টি, গ্রাম: ১৯১টি |
০ মি.মি. |
| চৌগাছা |
অশ্রেণীভুক্ত: ৮০৩
ভূমিহীন: ১৫০
প্রান্তিক: ১২,৯৭৮
ক্ষুদ্র: ২১,৩৫৩
মাঝারি: ১,৬৮১
বড়: ৫১ |
পৌরসভা: ১টি, ইউনিয়ন: ১১টি, ওয়ার্ড: ১০৮টি
ব্লক: ৩৪টি, মৌজা: ২২৬টি, গ্রাম: ১৬১টি |
১,৯২২ মি.মি. |
| ঝিকরগাছা |
অশ্রেণীভুক্ত: ৪৮,৬৮৩
ভূমিহীন: ০
প্রান্তিক: ৩
ক্ষুদ্র: ২
মাঝারি: ০
বড়: ০ |
পৌরসভা: ১টি, ইউনিয়ন: ১১টি, ওয়ার্ড: ১০৮টি
ব্লক: ৩৪টি, মৌজা: ১৬৩টি, গ্রাম: ১৭৮টি |
০ মি.মি. |
| কেশবপুর |
অশ্রেণীভুক্ত: ৪১
ভূমিহীন: ৬৩৬
প্রান্তিক: ৪,৩২৪
ক্ষুদ্র: ৭,১৫৬
মাঝারি: ৯৮৫
বড়: ৪২ |
পৌরসভা: ১টি, ইউনিয়ন: ১১টি, ওয়ার্ড: ১০৮টি
ব্লক: ৩৪টি, মৌজা: ১৪active৫টি, গ্রাম: ১৪৪টি |
১২১ মি.মি. |
| যশোর সদর |
অশ্রেণীভুক্ত: ২০,২২৯
ভূমিহীন: ১,৩৬৭
প্রান্তিক: ৪,৩৭৩
ক্ষুদ্র: ১১,১০৭
মাঝারি: ৫,৪৭৬
বড়: ৩,৩৭৯ |
পৌরসভা: ১টি, ইউনিয়ন: ১৫টি, ওয়ার্ড: ৪৮টি
ব্লক: ৪৬টি, মৌজা: ২৪৭টি, গ্রাম: ২৫২টি |
১,০০৪ মি.মি. |
| শার্শা |
অশ্রেণীভুক্ত: ১২,১৪২
ভূমিহীন: ৫৭
প্রান্তিক: ৬১৮
ক্ষুদ্র: ২,৩৯১
মাঝারি: ৬,৪৪৭
বড়: ১১,০৯০ |
পৌরসভা: ১টি, ইউনিয়ন: ১১টি, ওয়ার্ড: ১০৮টি
ব্লক: ৩৪টি, মৌজা: ১৩৫টি, গ্রাম: ১৭২টি |
উল্লেখ নেই |
যশোরের এই সুষম কৃষি ব্যবস্থার সাথে জেলার মাঠপর্যায়ের অর্থনীতি ও ঐতিহাসিক স্থানগুলো গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে। নিবন্ধের গভীরতা প্রকাশে নিচের ঐতিহাসিক উপাদানগুলো উল্লেখযোগ্য:
গদখালীর ফুলের বাগান (ঝিকরগাছা): ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালী ও পানিসারা ইউনিয়নে দেশের সবচেয়ে বড় ফুলের বাণিজ্যিক জোন গড়ে উঠেছে। এখানকার উর্বর মাটিতে উৎপাদিত রজনীগন্ধা, গোলাপ, জারবেরা ও গ্ল্যাডিওলাস দেশীয় ফুলের চাহিদার সিংহভাগ পূরণ করে।
এগারো শিব মন্দির ও লোকজ কৃষি: অভয়নগর উপজেলার প্রাচীন এই স্থাপত্যের চারপাশের গ্রামীণ জনপদ ঐতিহ্যগতভাবেই ধান, পাট ও শীতকালীন সবজি চাষে বিখ্যাত। এই অঞ্চলের নদী অববাহিকা কৃষি সেচ ব্যবস্থাকে সহজতর করেছে।
যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি: জেলার এই প্রাচীন লাইব্রেরির নথিপত্র ঘাটলে দেখা যায়, ব্রিটিশ আমলে এই অঞ্চলে নীল চাষের বিরুদ্ধে যে নীল বিদ্রোহ হয়েছিল, তার মূল কেন্দ্র ছিল এই যশোর। সেই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট থেকে আজ যশোর খাদ্য উদ্বৃত্ত জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

উপজেলা পর্যায়ের মাঠ কর্মকর্তা (ব্লক সুপারভাইজার) এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সুনির্দিষ্ট মনিটরিংয়ের কারণে যশোরের কৃষকেরা আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত শিখছেন। ক্ষুদ্র ও মাঝারি চাষীদের এই বিপুল সংখ্যাই প্রমাণ করে যে, যথাযথ সরকারি প্রণোদনা ও আধুনিক বাজারজাতকরণ সুবিধা পেলে যশোরের কৃষি দেশের অর্থনীতিতে আরও বড় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে সক্ষম।
মন্তব্য