খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ই জানুয়ারি ২০১৫, ১২:১৪ পিএম
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রবেশদ্বার এবং দেশের প্রথম স্বাধীন জেলা যশোর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চল। উপজেলার সংখ্যার বিচারে এটি দেশের একটি ‘এ’ শ্রেণীভুক্ত জেলা। যশোর জেলা মোট ৮টি প্রশাসনিক উপজেলায় বিভক্ত। গ্রামীণ অর্থনীতি সচল রাখা, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় এই উপজেলাগুলোর ভূমিকা অপরিসীম। এ জেলায় ৮টি সাধারণ পুলিশ থানার পাশাপাশি দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দরকে কেন্দ্র করে ১টি বিশেষায়িত বন্দর থানা (বেনাপোল) রয়েছে।
নিচে যশোর জেলার ৮টি উপজেলার ভৌগোলিক অবস্থান, সীমানা এবং ঐতিহাসিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।

Table of Contents
আপনার সুবিধার্থে প্রতিটি উপজেলার ভৌগোলিক চতুঃসীমা ও অনন্য বৈশিষ্ট্য নিচে সুবিন্যস্তভাবে তুলে ধরা হলো:
যশোর জেলার কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত এই উপজেলাটি জেলার প্রধান প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র।
সীমানা: এর উত্তরে বাঘারপাড়া ও ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা; দক্ষিণে অভয়নগর ও মণিরামপুর উপজেলা; পূর্বে বাঘারপাড়া ও নড়াইল সদর উপজেলা এবং পশ্চিমে ঝিকরগাছা ও চৌগাছা উপজেলা অবস্থিত।
শিল্প ও নদী-বন্দরকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য এই উপজেলাটি অত্যন্ত সুপরিচিত।
সীমানা: এর উত্তরে যশোর সদর ও নড়াইল সদর উপজেলা; দক্ষিণে খুলনার খানজাহান আলী থানা, ডুমুরিয়া, দিঘলিয়া ও ফুলতলা উপজেলা; পূর্বে নড়াইলের নড়াইল সদর ও কালিয়া উপজেলা এবং পশ্চিমে যশোর সদর ও মণিরামপুর উপজেলা অবস্থিত।
মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের স্মৃতিবিজড়িত এই উপজেলার মোট আয়তন ২৫৮.৫৩ বর্গকিলোমিটার এবং জেলা সদর থেকে এর দূরত্ব প্রায়৩২ কিলোমিটার।
সীমানা: এর উত্তরে মণিরামপুর উপজেলা; দক্ষিণে খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলা; পূর্বে অভয়নগর উপজেলা এবং পশ্চিমে সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলা অবস্থিত।
যশোরের উত্তর-পশ্চিম কোণে অবস্থিত এই উপজেলাটি কৃষি উৎপাদন এবং ভারত সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
সীমানা: এর উত্তরে ঝিনাইদহের মহেশপুর, কোটচাঁদপুর ও কালীগঞ্জ উপজেলা; দক্ষিণে শার্শা ও ঝিকরগাছা উপজেলা এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য; পূর্বে যশোর সদর ও কালীগঞ্জ উপজেলা এবং পশ্চিমে মহেশপুর উপজেলা অবস্থিত।
কপোতাক্ষ নদের তীরে গড়ে ওঠা এই উপজেলার আয়তন ৩০৮.০৮ বর্গকিলোমিটার এবং জেলা সদর থেকে এর দূরত্ব ১৮ কিলোমিটার। এটি মহান মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক ‘গোয়ালহাটি যুদ্ধ’-এর স্মৃতিবিজড়িত স্থান, যেখানে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।
সীমানা: এর উত্তরে চৌগাছা উপজেলা; দক্ষিণে সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলা; পূর্বে যশোর সদর ও মণিরামপুর উপজেলা এবং পশ্চিমে শার্শা উপজেলা অবস্থিত।
কৃষিপ্রধান এই উপজেলাটি জেলার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত।
সীমানা: এর উত্তরে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ ও মাগুরার শালিখা উপজেলা; দক্ষিণে নড়াইল সদর ও যশোর সদর উপজেলা; পূর্বে মাগুরার শালিখা ও নড়াইল সদর উপজেলা এবং পশ্চিমে যশোর সদর উপজেলা অবস্থিত।
জনশ্রুতি অনুযায়ী, বিখ্যাত রাজা সীতারাম রায়ের উকিল মুণিরাম রায়ের নামানুসারে এই অঞ্চলের নামকরণ হয় মণিরামপুর। ঊনবিংশ শতকের শুরুর দিকে চাঁচড়া রাজবাড়ীর একজন মহিয়সী নারী এখানে একটি বিশাল দীঘি খনন করেন, যা আজও ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে টিকে আছে।
এই উপজেলাটি অর্থনৈতিকভাবে যশোরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর ‘বেনাপোল স্থলবন্দর’ এবং প্রথম শ্রেণীর বেনাপোল পৌরসভা এই উপজেলার অংশ। এখানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় একটি বিশেষায়িত বেনাপোল বন্দর থানা রয়েছে। এ ছাড়া এখানে আফিল জুট উইভিং মিলস ও আফিল এগ্রোর মতো বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে।
যশোরের উপজেলাগুলোর শক্তি কেবল প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এদের রয়েছে নিজস্ব অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য:
ফুলের রাজধানী গদখালী: ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালী আজ সারা দেশে বিখ্যাত। এখানকার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে চাষ করা হরেক রকমের ফুল সারা দেশের চাহিদার সিংহভাগ পূরণ করে যশোরের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছে।
ঐতিহাসিক এগারো শিব মন্দির: অভয়নগর উপজেলার ভাটপাড়ায় অবস্থিত মোঘল আমলের ঐতিহ্যবাহী এই মন্দিরটি এই অঞ্চলের প্রাচীন স্থাপত্যশৈলী ও ধর্মীয় ইতিহাসের এক অনন্য নিদর্শন।

ভৌগোলিক বৈচিত্র্য, বেনাপোলের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, গদখালীর চোখ জুড়ানো ফুলের বাগান আর মণিরামপুরের প্রাচীন ইতিহাস—সব মিলিয়ে এই ৮টি উপজেলা নিয়েই গঠিত হয়েছে বর্তমানের স্বকীয়তায় উজ্জ্বল যশোর জেলা। প্রতিটি উপজেলা নিজস্ব সম্পদ ও সম্ভাবনা দিয়ে এই প্রাচীন জনপদ তথা সমগ্র বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে অনন্য অবদান রেখে চলেছে।
মন্তব্য