আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় যশোর জেলার নদ-নদী।
Table of Contents
যশোর জেলার নদ-নদী:-
নদ-নদী যেমন ভূ-গঠনের মুখ্য ভূমিকা পালন করছে, তেমনি মানব সভ্যতার ক্রম-বিকাশেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। যশোর জেলার উল্লেখযোগ্য নদী সমূহ হল- কপোতাক্ষ, ভৈরব, চিত্রা, মুক্তেশ্বরী ও হরিহর নদী ইত্যাদি।

কপোতাক্ষ নদ:
চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনার মাথাভাঙ্গা নদীর শাখা দুইটি গড়াই ও কপোতাক্ষ। কপোতাক্ষ নদী কুষ্টিয়া জেলা থেকে ঝিনাইদহ জেলা হয়ে যশোরের চৌগাছা, ঝিকরগাছা, মনিরামপুর ও কেশবপুর উপজেলার উপর দিয়ে খুলনার পাইকগাছা উপজেলা হয়ে শিবসা নদীতে পড়েছে।
চিত্রা নদীঃ
চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনার মাথাভাঙ্গা নদী থেকে উৎপত্তি। এটি ঝিনাইদহ জেলা হয়ে যশোর জেলার বাঘারপাড়া উপজেলার জহুরপুর ইউনিয়নের ছুটুয়াকান্ডি ভায়া খাজুরা নারিকেল বাড়িয়া ইউনিয়ন হয়ে নড়াইল জেলার মাইজপাড়া, গোবর সিংগাসলপুর পেরুলীর হয়ে নবগঙ্গার সাথে মিলিত হয়েছে।

ভৈরব নদী:
সুন্দরবনের শিবসা নদীতে এ নদী মিলিত হয়েছে। শিবসা নদীর উজানে খুলনা-নওয়াপাড়া (অভয়নগর উপজেলা) ভায়া যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়া ইউনিয়নের আফ্রা এসে এটির একটি অংশ নড়াইল জেলায় এবং আরেকটি অংশ যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়া, কচুয়া-নরেন্দ্রপুর, যশোর পৌরসভার মধ্য দিয়ে উপ-শহর, নওয়াপাড়া, চুড়ামনকাঠি ও হৈবৎপুর ইউনিয়ন দিয়ে ঝিনাইদহ জেলায় প্রবেশ করেছে।
বেতনা নদী:
বেতনা নদী বা বেতনা-কোদালিয়া নদী বাংলাদেশ-ভারতের একটি আন্তঃসীমান্ত নদী।। এই নদী ঝিনাইদহ, যশোর ও সাতক্ষীরা জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত। নদীটির দৈর্ঘ্য ১৯১ কিলোমিটার, গড় প্রস্থ ৫৫ মিটার এবং নদীটির প্রকৃতি সর্পিলাকার। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বা “পাউবো” কর্তৃক বেতনা নদীর প্রদত্ত পরিচিতি নম্বর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী নং ৬৪।
এই নদীর উৎপত্তি ভৈরব নদের শাখা হিসেবে ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুরে; কিন্তু এই উৎসমুখ এখন বিচ্ছিন্ন। মহেশপুরে কতগুলো বিল থেকে পানি নিয়ে এই নদী ভারতে প্রবেশ করেছে। আবার যশোর জেলার শারশা উপজেলায় পুনরায় বাংলাদেশে প্রবেশ করে নাভারন হয়ে সাতক্ষীরা জেলায় প্রবেশ করেছে। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে এই নদীর অপর নাম কোদালিয়া।
এই নদী সাতক্ষীরা জেলায় মরিচ্চাপ নদীর সাথে মিলে খোলপেটুয়া নদী নাম ধারণ করেছে। এর পরে নদীটি কালিয়া নদী নামে পরিচিত। কালিয়া নদীর শাখা নদীর নাম দালুয়া নদী। বেতনা নদী সুন্দরবন অংশে অর্পণগাছিয়া নদী নামে পরিচিত। অতঃপর এই একই নদী মালঞ্চ নামে পরিচিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে মিলিত হয়েছে।

- ভৈরব নদ
- কপোতাক্ষ নদ
- বেতনা নদী
- চিত্রা নদী
- হরিহর নদ
- মযুদখালী নদী
- ঝাঁপা বাওড়
- ভবদহ বিল
- শার্শা কন্যাদাহের আশ্চর্য বাওড়
- কুটিবাড়ি বিল, মাটিপুকুর
- পদ্ম বিল চাকলা
- কালিয়ানীর বিল বা বাহাদুরপুর বাওড়
- বুকভরা বাওড়
আরও পড়ুনঃ
