যশোর জেলার ভৌগলিক পরিচিতি

আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় যশোর জেলার ভৌগলিক পরিচিতি।

 

যশোর জেলার ভৌগলিক পরিচিতি
যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরী

 

যশোর জেলার ভৌগলিক পরিচিতি:-

বৃহত্তর যশোর জেলা ৮৮°৪০’ হতে ৮৯°৫০’ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ এবং ২২°৪৭’ হতে ২৩°৪৭’ উত্তর অক্ষাংশের মধ্যে অবস্থিত। যশোর একটি মৃতপ্রায় ব-দ্বীপ। পদ্মা ও হুগলী নদীর মধ্যবর্তী সুবৃহৎ ব-দ্বীপটির একটি অংশ হচ্ছে যশোর। অল্পকথায় গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্রের মধ্য ভাগে ব-আকৃতির জায়গাকে উত্তর-দক্ষিণ বরাবর সমান তিনভাগে ভাগ করলে মধ্য ভাগের পশ্চিম-উত্তর ও দক্ষিণপূর্ব অংশ ছাড়া অবশিষ্ট অংশ যশোর।

তৎকালে জেলার দৈর্ঘ্য ছিল ২৪৪ কিলোমিটার বা ১৪০ মাইল এবং প্রস্থ ৭৬.৮ কিলোমিটার বা ৪৮ মাইল। সে মোতাবেক আদি যশোরের আয়তন ছিল ১৪৫৬০বর্গ কিলোমিটার বা ৫৬০০ বর্গমাইল। যার মধ্যে ৪৪৬১.৬ বর্গ কিলোমিটার বা ১৭৬০ বর্গমাইল সুন্দরবন অংশ। এ কালপূর্ব থেকে প্রাক-পাকিস্তান পূর্বে যশোর জেলার আয়তন ছিল ৭৬৫০ বর্গ কিলোমিটার বা ২৫২৫ বর্গমাইল। বর্তমানে এ জেলায় কোন বনভূমি নেই। যশোর জেলায় অবস্থিত নদী সমূহের মধ্যে ভৈরব, চিত্রা, কপোতাক্ষ, হরিহর, দাদরা, বেত্রাবতী, কোদলা ও ইছামতি অন্যতম।

যশোর নামের উৎপত্তি সম্পর্কে বিভিন্ন মতামত মেলে। ঐতিহাসিকদের মধ্যে এই জেলার নামকরণ সম্পর্কে মতবিরোধ দেখা যায়। আরবি ‘জসর’ থেকে যশোর শব্দের উৎপত্তি বলে মনে করেন অনেকে। এর অর্থ সাঁকো। এককালে যশোরের সর্বত্র নদীনালায় পরিপূর্ণ ছিল। নদী বা খালের ওপর সাঁকো বানানো হতো।

google news
গুগোল নিউজে আমাদের ফলো করুন

 

 

পীর খানজাহান আলী বাঁশের সাকো নির্মাণ করে ভৈরব নদী পেরিয়ে মুড়লীতে আসেন বলে জানা যায়। এই আরবি শব্দ ‘জসর’ (বাংলায় যার অর্থ বাঁশের সাঁকো) থেকে যশোর নামের উৎপত্তি। অনুমান করা হয় কসবা নামটি পীর খানজাহান আলীরই দেওয়া (১৩৯৮ খৃঃ)। তবে অনেকের অভিমত, খানজাহান আলী আসার আগে থেকেই ‘যশোর’ নামটি ছিল।

আবার অন্য একটি সূত্র হতে জানা যায় যে- মহারাজ প্রতাপাদিত্যের পিতা বিক্রমাদিত্য ও তার এক সহযোগি বসন্ত রায় গৌড়ের এক চরম অরাজকতার সময় সুলতানের অপরিমিত ধনরত্ন নৌকা বোঝাই করে গোপনে এই এলাকায় প্রেরণ করেন। গৌড়ের ধনরত্ন বোঝাই অসংখ্য নৌকা এখানে পৌঁছানোর পর ধীরে ধীরে বন জঙ্গলে আবৃত্ত এলাকাটির খ্যাতি চারদিকে ছড়িয়ে পড়লো।

প্রতিষ্ঠিত হলো একটি সমৃদ্ধ রাজ্য। নবপ্রতিষ্ঠিত রাজ্যের নামকরণ হল যশোহর। প্রবাদ আছে, গৌড়ের যশ হরণ করে এই এলাকার শ্রীবৃদ্ধি হওয়ায় নবপ্রতিষ্ঠিত রাজ্যের নাম যশোহর রাখা হয়। স্থানীয় পুরাতন নাম যশোর পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন নামকরণ হয় যশোহর। ‘যশোর’ শব্দটি ‘যশোহর’ শব্দের অপভ্রংশ।

 

যশোর জেলার ভৌগলিক পরিচিতি
ঝাঁপা ভাসমান সেতু – যশোর জেলা

 

আরও পড়ূনঃ

Leave a Comment