আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় যশোর জেলা কিসের জন্য বিখ্যাত।
Table of Contents
যশোর জেলা কিসের জন্য বিখ্যাত:-
যশোর জেলা বিখ্যাত বলা হয়ে থাকে খেজুর গুড়, খই, ও জামতলার মিষ্টি জন্য এছাড়াও কলা ও খেজুর গুড়ের জন্য যশোর বিখ্যাত। যশোর জেলা কপোতাক্ষ নদ এর জন্যও অনেক বিখ্যাত।

খেজুর গুড়:-
খেজুর গুড় এক ধরনের খাবার যা খেজুরের রস থেকে তৈরি করা হয়। বাংলা অগ্রহায়ণ মাস থেকে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত খেজুরের রস সংগ্রহ করা হয়। খেজুরের উত্তাপে রসকে ঘন ও শক্ত পাটালিগুড়ে পরিণত করা হয়। ধরন অনুযায়ী খেজুরের গুড়কে ঝোলা গুড়, দানাগুড়, পাটালি, চিটাগুড় ইত্যাদি ভাগে ভাগে ভাগ করা যায়।
খেজুর রস এবং গুড় খুবই সুস্বাদু। শীতকালে খেজুরের রস ও গুড় দিয়ে পায়েস, বিভিন্ন ধরনের শীতকালীন পিঠা, তালের পিঠা, খেজুর গুড়ের জিলাপি ইত্যাদি তৈরি হয়ে থাকে। স্বাদ আর মানভেদে খেজুরের গুড় পাটালি, নলেন গুড়, হাজারী গুড় নামে পরিচিত। খেজুরের গুড়ের মাধ্যমে শিল্পোন্নয়ন: এই খেজুরের গুড় দ্বারা অর্থনৈতিকভাবে শিল্প গড়ে তোলা সম্ভব। এই শিল্পে প্রচুর পরিমাণে অর্থনৈতিক লাভ অর্জন করা সম্ভব। গ্রাম অঞ্চলে এই শিল্প অর্থনৈতিকভাবে অনেক সাহায্য করতে পারে।
বিলুপ্তি: খেজুরের গুড় বিলুপ্ত হওয়ার প্রধান কারণ এখন আর কেউ সাধারণত গাছ কাটতে সক্ষম নয়। কেননা, এই কাজে পারিশ্রমিক অত্যন্ত কম। দ্বিতীয়তঃ বাড়ি ঘর তৈরির জন্য ইট ব্যবহার করা হয়, এই ইটের প্রধান পোড়ানোর উপাদান হল খেজুর গাছ দ্বারা অনেক পরিমাণে আগুন জলে যার ফলে ইটভাটায় বেশি খেজুর গাছ ব্যবহার হয়। এই কারণেই খেজুর গাছ এখন বিলুপ্তির পথে তা ছাড়া ও খেজুর গাছ দিয়ে নানান কাজ করা হয়।
খই:-
খই (Popcorn) গ্রামবাংলার অতি জনপ্রিয় একটি খাবার। সাধারণত আপ্যায়ন এর সময় এর ব্যবহার হয়। যে কোন ধান থেকেই খই করা সম্ভব। তবে বৈচিত্রপূণ্য এই বাংলাদেশে খই এর উপযুক্ত বিশেষ কিছু ধান আছে।
জামতলার মিষ্টি:-
জামতলার মিষ্টি হলো বাংলাদেশের যশোর জেলার জামতলা বাজারে উৎপন্ন একটি বিখ্যাত মিষ্টি। এটি ছানা দিয়ে তৈরি গোলাকৃতির একটি মিষ্টি যা ঘন চিনির রসে ডুবানো থাকে। এই মিষ্টি রসগোল্লার একটি প্রকরণ। এটি দেখতে কিছুটা লালচে বা বাদামী রংয়ের হয়ে থাকে। জামতলা বাজারের সাদেক আলী নামক জনৈক ব্যক্তি এই মিষ্টি তৈরি করেন বলে এটি সাদেক গোল্লা নামেও পরিচিত।
জামতলার মিষ্টির ইতিহাস ছয় দশকের বেশি। ১৯৫৫ সালে যশোর-সাতক্ষীরা সড়কের পাশে অবস্থিত জামতলা বাজারে চায়ের দোকানদার ছিলেন জনৈক শেখ সাদেক আলী। প্রতিদিন গোয়ালরা দোকানে গরুর দুধ দিয়ে যেত। একদিন প্রয়োজনের তুলনায় দুধের পরিমাণ বেশি হলে সাদেক দুধ কিনতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
এ সময় কুমিল্লার এক ব্যক্তি সাদেক আলীকে বলেন যে দুধের মান খুব ভালো এবং সেই দুধ রেখে দেওয়ার অনুরোধ করলেন। কুমিল্লার সেই ব্যক্তি আরও বললেন যে তিনি রাতে মিষ্টি তৈরি করে দেবেন। সেই দুধ দিয়ে মিষ্টি তৈরি শুরু হয়। কুমিল্লার সেই ব্যক্তির শিখিয়ে দেওয়া পদ্ধতিতে সাদেক আলী মিষ্টি তৈরি শুরু করেন। সাদেক আলীর এই মিষ্টির স্বাদ ও গুণাগুণের জন্য এর খ্যাতি ছড়াতে সাদেক গোল্লা নামে। পরবর্তীতে এটি এর উৎপত্তিস্থলের নামে জামতলার মিষ্টি হিসেবে সারা দেশে পরিচিতি লাভ করতে থাকে। এই মিষ্টি তৈরির প্রক্রিয়া রসগোল্লার অনুরূপ তবে ব্যবহৃত উপকরণে কিছুটা বিশেষত্ব রয়েছে। তাই একে জামতলার রসগোল্লাও বলা হয়।

কপোতাক্ষ নদ:-
কপোতাক্ষ নদ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা বিভাগের অন্যতম বড় নদ। নদীটি চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, যশোর, সাতক্ষীরা ও খুলনা জেলার ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয় । বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বা “পাউবো” কর্তৃক কপোতাক্ষ নদের প্রদত্ত পরিচিতি নম্বর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী নং ২৩৮ ।
