আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় যশোর জেলার বৃহৎ প্রকল্প।

যশোর জেলার বৃহৎ প্রকল্প:-
কোন জেলার শিল্প, ব্যবসা ও বাণিজ্যের উদ্ভব ও ক্রমবিকাশের ক্ষেত্রে সে জেলার ভৌগোলিক অবস্থান, কৃষি ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিশেষ বা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বৃহত্তর যশোর জেলা বাংলাদেশের পশ্চিম সীমান্তে অবস্থিত গাঙ্গেয় বদ্বীপ অঞ্চলের একটি জেলা। বঙ্গোপসাগর এ জেলা থেকে প্রায় ৭০/৭৫ মাইল দক্ষিণে অবস্থিত।
ঢাকা এবং অন্যান্য জেলার গুরুত্বপূর্ণ নগর বন্দরগুলির সঙ্গে বাস, লঞ্চ, রেল ইত্যাদির মাধ্যমে এ জেলার যোগাযোগ রয়েছে। এছাড়া যশোর ও ঢাকার মধ্যে নিয়মিত বিমান চলাচলের ব্যবস্থা আছে। সামুদ্রিক বন্দর চালনা যশোর সদর থেকে ৫৫/৬০ মাইল দূরে অবস্থিত। এ জেলার ভূমি তুলনামুলকভাবে কিছুটা উচু এবং শুস্ক। অধিকাংশ অঞ্চল বন্যায় প্লাবিত হয় না। জেলার সর্বত্রই প্রচুর খেঁজুর গাছ দেখা যায়।

অন্যান্য ফসলাদির মধ্যে ইক্ষু, মরিচ, ধান, কলাই, মসুর, ছোলা,আদা,পান, তামাক প্রভৃতি পর্যাপ্ত পরিমাণে জন্মে। এই অঞ্চলের অধিবাসীদের জীবনধারণের ক্ষেত্রে কৃষিই প্রধান পেশা। এখানে শিল্পের কোন ভূমিকা তেমন নেই বললেই চলে। জেলার জনসংখ্যার প্রায় শতকরা ১৪ ভাগ লোক শিল্পের সাথে জড়িত। ১৯৬২ সালের শেষ দিকে জেলায় কুটির শিল্পের সংখ্যা ছিল ২৯,৬৪৬ এবং ক্ষুদ্র লিল্পের সংখ্যা ছিল ৫১৫ টি।
কুটির ও ক্ষুদ্র এই দুই প্রকার শিল্পে যথাক্রমে ৮৮,৭৩০ এবং ৩,৪১৬ জন লোক নিয়োজিত ছিল। বর্তমানে চালু শিল্পগুলির মধ্যে কুটির শিল্পই প্রধান্য লাভ করেছে। যার ফলে মোট শিল্প শ্রমিকের শতকরা ৯০ ভাগেরও বেশী এই কুটির শিল্পে নিয়োজত আছে। জেলার কুটির শিল্পের মধ্যে খেজুরের গুড় শিল্প সর্বাপেক্ষা বেশী প্রসিদ্ধ। বৃটিশ শাসনের সময়েও যশোর খেজুর গুড়ের জন্য পরিচিত ছিল।
১৯৬০ সাল পর্যন্ত জেলায় কোন বৃহৎ শিল্প ছিল না। বর্তমানে যে কয়টি বৃহৎ শিল্প এখানে গড়ে উঠেছে সেগুলো হচ্ছে যশোর জুট ইন্ডাষ্ট্রীজ লিমিটেড, কার্পেটিং জুট মিলস্ এবং বেঙ্গল টেক্সাটাইল মিলস্ লিমিটেড। সবকটি শিল্প প্রতিষ্ঠানই অভয়নগর থানাধীন নোয়াপাড়ায় অবস্থিত। জেলার অন্যান্য থানার চেয়ে শিল্পের দিক দিয়ে অভয়নগর থানা অনেক অগ্রসর।

আরও পড়ুনঃ
