যশোরে জলাবদ্ধ পরিস্থিতির অবনতি

যশোরে জলাবদ্ধ – যশোরে গত কয়েকদিনে ২১৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ভারি বর্ষণে তলিয়ে গেছে যশোর শহরের নিম্নাঞ্চল। বাসাবাড়ি থেকে শুরু করে রান্নাঘর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ভিতরে হাঁটু সমান পানি।

 

যশোরে জলাবদ্ধ পরিস্থিতির অবনতি

বিশেষ করে ৫, ৬, ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে জলাবদ্ধতায় জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। বাসাবাড়ি ও রান্নাঘরে জলাবদ্ধতার কারণে রান্না করার কোনো ব্যবস্থা নেই। যার কারণে আধাপেটে বা না খেয়ে দিন পার করছেন ওয়ার্ড পাঁচটির নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা। এমন পরিস্থিতিতে এসব পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে যশোর বিএনপির নেতাকর্মীরা।

গত দু’দিন ওয়ার্ডগুলোতে ঘুরে ঘুরে রান্নাকরা খাবার বিতরণ করেছেন তারা। বৃষ্টি আর জলাবদ্ধতার মধ্যে এসব খাবার পেয়ে খুশি জলমগ্ন এসব বাসিন্দা। দলের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে- যতদিন জলাবদ্ধতা থাকবে, ততদিন এই কর্মসূচি চলমান থাকবে।

 

আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, যশোরে শুক্রবার ২৯ মিলিমিটার ও শনিবার ৮১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। আর রোববার ৮৫ মিলিমিটার ও ১৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই বৃষ্টিতে পৌর শহরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। টানা বর্ষণে দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন আয় ও জলাবদ্ধ এলাকার মানুষ। বিশেষ করে ৫, ৬, ৭, ৮ ও ৯ নাম্বার ওয়ার্ডে জলাবদ্ধতায় জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। চারিদিকে শুধু পানি আর পানি। মানবেতর জীবন যাপন করছে ওয়ার্ড পাঁচটির অসংখ্য মানুষ ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, যশোর ৭ নম্বর ওয়ার্ডে শংকরপুর এলাকায় বাসাবাড়ি, সড়কে হাঁটু সমান পানি জমে আছে। জলাবদ্ধতার কারণে পরিবার-পরিজন নিয়ে খাটের উপরে অবস্থান করছেন। রান্নাঘর, ঘরের মেঝেতে হাঁটুসমান পানি থাকাতে রান্না করার কোন ব্যবস্থা নেই। অনেকেই শুকনা খাবার খেয়ে দিন পার করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে বড় বড় হাঁড়িতে রান্না করে খাবার বিতরণ করতে দেখা গেছে।

google news
গুগোল নিউজে আমাদের ফলো করুন

 

শহরের শংকরপুর গোলপাতা মোড়ের বাসিন্দা জমিরন বেগম নামে এক মহিলা বলেন, গত দুইদিন ধরে সারাদিন বৃষ্টি। বৃষ্টিতে ঘরে-রান্নাঘরে পানি উঠেছে। ঘরবাড়িতে হাঁটু পানি। ছেলে মেয়েরা সব না খেয়ে। রোববার রাতে বিএনপির নেতাকর্মীরা রান্না করা খাবার দিয়েছেন।

নজরুল ইসলাম নামে এক বাসিন্দা বলেন, আমার ঘরেও পানি উঠেছে। হাঁটুপানি সব জায়গায়। বাসাবাড়িতে চাউল আছে, তবে রান্না করার কোন জায়গা নাই। এমন পরিস্থিতির মধ্যে এখন খাবারের সংকট। রাতে রান্না করা খাবার পেয়ে খুব ভালো লাগছে।

বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, টানা বৃষ্টিতে শহরের নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি খেটে-খাওয়া মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে শহরের জলাবদ্ধ এলাকার মানুষের মাঝে বিএনপির পক্ষ থেকে রান্না করে খাবার দেওয়া হচ্ছে।

 

 

বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে জেলা যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা কাজ করছে। যতদিন এই জলাবদ্ধতা থাকবে, ততদিন এই কার্যক্রম চলমান থাকবে।  তিনি বলেন, শুধু খাবার দিলে হবে না। এসব ওয়ার্ডগুলোতে পানি নিষ্কাশনের জন্য স্থায়ী সমাধান করতে পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বসা হবে।

 

আরও দেখুনঃ

Leave a Comment